Featured

1
এখানে সার্চ দিয়ে খবর খুজুন

বরুড়ায় নকলে বাধা দেওয়ায় কক্ষ ভাঙচুর, ১০ শিক্ষককে অব্যাহতি, আহত -৭, কেন্দ্র স্হানান্তর।


বরুড়া হাজী নোয়াব আলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় 

বরুড়া প্রতিনিধিঃ 

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বরুড়া হাজী নোয়াব আলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসির গণিত পরীক্ষায় নকল করতে বাধা দেওয়ায় কক্ষ ভাঙচুর করেছে পরীক্ষার্থীরা। এরপর ওই বিদ্যালয়ের পরীক্ষাকেন্দ্র ফলকামুড়ি শাহেরবানু আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে স্থানান্তর করা হয়েছে।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বরুড়া হাজী নোয়াব আলী পাইলট উচ্চবিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল করতে বাধা দেওয়ায় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের দরজা-জানালা ভাঙচুর, পরীক্ষাকক্ষে দায়িত্বরত শিক্ষকদের হেনস্তা ও বিক্ষোভ করে।

এ ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের পরীক্ষাকেন্দ্র স্থানান্তর করা হয়েছে। ওই কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা আগামীকাল বুধবার থেকে উপজেলার ফলকামুড়ি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এসএসসি পরীক্ষা দেবে।

এ ছাড়া ঝলম, পয়ালগাছা, বাতাইছড়ি পরীক্ষাকেন্দ্রে অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখতে পায় বোর্ডের পরিদর্শক দল। বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, বরুড়া উপজেলার পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে নানা অনিয়ম পেয়েছে বোর্ডের পরিদর্শক দল। তাঁদের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বোর্ড ব্যবস্থা নিচ্ছে। নকল প্রতিরোধে বোর্ডের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষ আহত - ৭

বরুড়া হাজী নোয়াব আলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে এস এস সি পরীক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষার্থী পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ৭জন আহত হয়েছে। এস এস সি পরীক্ষা শেষ হলে কিছু বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী হট্টগোল ও ভাংচুর করে এবং বহিরাগত লোকজন পটকাবাজী ফাটিয়ে আতংক সৃষ্টি করে। এ সময় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাথে সাথে মুহূর্তেই পরীক্ষার হলের ভিতরে বাহিরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

এ সময় পরীক্ষার কেন্দ্রের ভিতরে থাকা দুজন নির্বাহী ম্যাজিট্রেট সহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে উত্তরপত্র নিতে বাধা প্রদান করে শিক্ষার্থীরা।বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ফিরোজ হোসেন সহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

পুনরায় পরিস্থিতির অবনতি হলে বরুড়া পৌরসভা মেয়র মোঃ বকতার হোসেন, বরুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও হাজী নোয়াব আলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ নাছির উদ্দীন লিংকন এসে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। 

বিকাল তিনটার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে পুলিশি প্রহড়ায় পরীক্ষার সকল খাতাপত্র নিয়ে যাওয়া হয়। এদিন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে এক পুলিশ সদস্য সহ ৭ জন আহত হয়।  

আহতদের মধ্যে মোঃ সজিব হোসেন (১৬) পিতা-ওমর ফারুক, গ্রাম কাসেড্ডা, মোঃ ফারুক (২১) পিতা-ইব্রাহিম মিয়া গ্রাম-শিয়াললোড়া, তাজুল ইসলাম (১৫) পিতা-মঞ্জুর উদ্দিন, গ্রাম-ঝলম, মোহাম্মদ আলী (৩৮)পিতা-মোবারক হোসেন, গ্রাম-বাতাবাড়িয়া, মোঃ উদয় (১৭) পিতা-জামাল হোসেন, গ্রাম-ভুওরী, ফাহাদ হোসেন (১৭) পিতা-মোশাররফ হোসেন, গ্রাম-শালুকিয়া, নুরুল ইসলাম (২৭) পিতা মোঃ ফারুক, বরুড়া থানা স্টাফ। 

এ বিষয়ে বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফিরোজ হোসেন বলেন, বরুড়া হাজী নোয়াব আলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোঃ শামীম আলম, বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা আফরিন মুস্তাফা এর নির্দেশে পরীক্ষার হল নকলমুক্ত করার কারনে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা শেষে দায়িত্বরত শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর হামলা চালায়। তাৎক্ষণিক থানা পুলিশ কোন রকম টর্চার ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

১০ শিক্ষককে অব্যাহতিঃ

গতকাল মঙ্গলবার এসএসসি পরীক্ষার গণিত বিষয়ের পরীক্ষা চলার সময় বোর্ডের পরিদর্শক দল বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় ১০ শিক্ষককে পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।

বরুড়া উপজেলার আড্ডা উমেদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করে বহিরাগতদের নকল সরবরাহ করতে ও কেন্দ্রে বিপুল পরিমাণ গাইড বইয়ের ছেঁড়া পাতা দেখতে পান দলের সদস্যরা। এ কারণে কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঝলম স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক মো. জহিরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান ও রণজিৎ সরকারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এ ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বে অবহেলার ঘটনায় বাতাইছড়ি উচ্চবিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে কেমতলি টেকনিক্যাল উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সারোয়ার হোসেন ও শিমুল চন্দ্র ভৌমিককে, ঝলম স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে ছোটতুলাগাঁও উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খোকন চন্দ্র শর্মা ও কৃষ্ণপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সেলিনা ইয়াছমিনকে, পয়ালগাছা বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে কাজকামতা আশ্রাফিয়া আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক শাহিদা আক্তারকে, বরুড়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বাতাইছড়ি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক রাবেয়া বেগম ও চালিতাতলি দারুসসুন্নাহ আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ইলিয়াছ মিয়াকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বরুড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।