পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখল করে ঘরবাড়ি-দোকানপাট নির্মাণ

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখল করে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। তবে দখল হয়ে যাওয়া ওই জায়গাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ চললেও এ বিষয়ে নির্বিকার পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ও সচেতন মহল। এলাকায় গোমতীর প্রতিরক্ষা বাঁধের উপর সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৪৫ শতকের অধীক ভুমি এক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে লীজ প্রদান করেছে বলে অফিস সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে লীজ গ্রহণকারী সেই স্থানে সেমি পাকা ঘর করে ব্যবসায়ীর নিকট থেকে মালিকানা হস্তান্তরের নামে কমপক্ষে ৪ কোটি টাকার অধিক হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অথচ প্রতিরক্ষা বাঁধের উপর ইজারা প্রদানই নিষিদ্ধ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, জেলার মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর (পূর্ব) ইউনিয়নের কোম্পানীগঞ্জ সংলগ্ন ত্রিশ মৌজা নামক স্থানে জেলার প্রধান নদী গোমতীর প্রতিরক্ষা বাঁধ (উত্তর)এর উপর ৪৫ শতাংশের বেশী জায়গা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে লীজ নেয় একই উপজেলার ভূবনঘর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের পুত্র নজরুল ইসলাম। লীজের শর্তে উল্লেখ ছিল,সাময়িক অব্যবহৃত ভূমি বানিজ্যিক কাজে ব্যবহারের নিমিত্তে সম্পূর্ণ অস্থায়ীভাবে বাৎসরিক ভিত্তিতে ১ (এক) সনা ইজারা প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জামানত বাবদ ৪ লাখ ৬ হাজার ৮০ টাকাসহ সর্বমোট প্রায় ৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকা প্রদান করে লীজ নেয়। লীজের শর্তে আরো উল্লেখ আছে কোন স্থাপনা নির্মান করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে অনুমতি নিতে হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন জানান, এক্ষেত্রে লীজ গ্রহনের পরই বাঁধের ওই অংশটিতে সেমি পাকা ১০ বাই ১০ ফুট আকারের কমপক্ষে অর্ধশতাধিক ঘর তৈরী করা হয়। পরবর্তীতে সেসব দোকান /গুদামঘরগুলোর প্রতিটি সর্বনিম্ন ৬ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০/১২ লাখ টাকায় ব্যবসায়ীদের কাছে হস্তান্তর করে। দায়িত্বশীল একাধিক সুত্র মতে গোমতীর প্রতিরক্ষা বা রক্ষা বাঁধের উপর স্থাপনা নির্মান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আর সেই কারণেই প্রায়ই নদী তীরে বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদের অভিযান চলে। উল্লেখ্য কিছুদিন আগেও আদর্শ সদর উপজেলার চানপুর, পালপাড়া,বুড়িচংয়ের পীর যাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর নামক স্থানে কয়েক কোটি টাকার অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলে পানি উন্নয়ন বোর্ড। যেখানে প্রতিরক্ষা বাঁধের উপর স্থাপনা নির্মান নিষিদ্ধ, সেখানে কেনো কুমিল্লার কোম্পানীগঞ্জের ত্রিশ এলাকায় ইজারা দেওয়া হলো এই বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে কুমিল্লা পানি উন্নউন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, স্থানীয় এমপিসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমি অনুমতি দিয়েছি। এখানে আমার কিছু করার ছিলো না।
