Featured

1
এখানে সার্চ দিয়ে খবর খুজুন

এসএসসির প্রথম দিনে কুমিল্লা বোর্ডে অনুপস্থিত ২৬১৮ শিক্ষার্থী

নকল দেওয়ার অভিযোগে দুই শিক্ষক আটক।
এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৬ শত ১৮ জন শিক্ষার্থী। বহিষ্কার হয়েছেন এক পরীক্ষার্থী। মোট ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৮৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৭১ জন। কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে নকল সরবরাহ করার অভিযোগে দুই শিক্ষককে আটক করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। পরে তাদেরকে পুলিশে দেয়া হয়।
জানা গেছে, কুমিল্লার দাউদকান্দির মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন কপি করে নকল সরবরাহের সময় হাতেনাতে আটক করা হয় কাউয়াদি মাদ্রাসার দুই শিক্ষক মোঃ শাহজালাল ও মোঃ সানা উল্লাহকে। এসময় উপজেলা দাউদকান্দি নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মহিনুল হাসান তাদের আটক করে দাউদকান্দি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে দুই শিক্ষক প্রশ্নের উত্তর ও বই কেটে নকল সরবরাহ করার সময় তাদেরকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা বোর্ডে ২৭২টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম দিন বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় ২ হাজার ৬ শ ১৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে কুমিল্লা জেলায় ৯২৫ জন, চাঁদপুরে ৩৫৮ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩৯৬ জন, নোয়াখালীতে ৫১২ জন, ফেণীতে ২১৫জন, লক্ষীপুরে ২১২ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। কুমিল্লা জেলায় এক শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন। এদিকে ৩০ এপ্রিল রবিবার সকাল ১০ টা থেকে শুরু হয় বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৮৫ হাজার ১০৬ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ছাত্র ৭৭ হাজার ৪৬৫ জন এবং ছাত্রী ১ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ জন। বোর্ডের অধীন কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরসহ ৬টি জেলার ২৭২টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে ৬টি জেলার ১ হাজার ৭৭৮টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছে। পরীক্ষার শুরুর দিনে কুমিল্লার বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ জামাল নাছের ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম। এসময় তারা শিক্ষার্থীদের খোঁজ খবর নেন।
কুমিল্লা জিলা স্কুল কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ জামাল নাছের বলেন, এবছর শিক্ষার্র্থীরা সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা দিচ্ছেন। এজন্য বোর্ড সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে গুজব নিয়ে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় আমরা সেদিকে লক্ষ্য রাখছি। তিনি আরো বলেন, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের যে ৫৭ হাজার শিক্ষার্থী রেজিষ্ট্রেশন করেও পরীক্ষায় অংশ নেন নি, বিপুল সংখ্যক এই শিক্ষার্থী ঝরে পরার বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা যায়, নির্বাচনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া, ছেলেদের কর্মসংস্থানে যোগদান এবং মেয়েদের বাল্যবিয়ের কারণে এই ঝরে পড়া বাড়ছে। এদিকে নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম বলেন, আমরা সকল এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শুভ কামনা জানাই। শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে সরকার কাজ করছে। বাল্য বিয়ে রোধেও প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে।