Featured

1
এখানে সার্চ দিয়ে খবর খুজুন

মারাত্নক দূর্ঘটনা থেকে রেহাই পেলো এলাকাবাসী | অবৈধ গ্যাস সংযোগের অভিযোগ


লাকসাম প্রতিনিধিঃ

বর্তমানে সকল ধরনের গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকলেও গত ৩ /৪ মাস আগে লাকসাম দৌলতগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনে আনোয়ার হোসেনের নব-নির্মিত ৬ তলা ভবনের কাজ চলমান থাকা অবস্থায় ওই ভবনে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয় । বাড়ির মালিক কিভাবে এই গ্যাস সংযোগ নিলেন তা নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি এই গ্যাস সংযোগ কতটুকু বৈধ এ নিয়েও জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। গত ২২ এপ্রিল সন্ধ্যায় নতুন সংযোজিত রেগুলেটর দিয়ে গ্যাস লিকেজ হওয়ার কঠিন শব্দে আতংকিত হয়ে পড়ে এলাকাবাসী। অগ্নিকাণ্ডের ভয়ে খবর দেওয়া হয় বাখরাবাদ গ্যাস অফিসে এবং লাকসাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অফিসে। পরে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন লাকসাম এর ইনচার্জ অতুল নাগের সহযোগিতায় গ্যাস লাইনটি বন্ধ করা হয়।
তাৎক্ষণিক গ্যাস সংযোগের কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় গ্যাস অফিস থেকে আগত লোকজন অতুল নাগের নির্দেশে রেগুলেটরটি খুলে নিয়ে যায় । বাড়ির মালিক আনোয়ার হোসেন জানান, সংযোগ অনুমোদনের জন্য কাগজপত্র অফিসে জমা দিলেও এখনো অনুমোদনের কাগজ হাতে আসেনি। যদি অনুমোদিত কোনো কাগজপত্র বাড়ির মালিকের হাতে না আসে তাহলে সংযোগটি অবৈধ ভাবে ব্যবহার করছে বলে এলাকাবাসীর দাবি। বাখরাবাদ গ্যাসের অনুমোদিত কোন ঠিকাদার এই কাজ করেছে তা কেউ স্বীকার করছে না। অনুমোদিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ছাড়া গ্যাস সংযোগ দেওয়ার নিয়ম না থাকলেও এখানে কিভাবে এই সংযোগ দেওয়া হলো এবং কে এই সংযোগ দিলো তা নিয়ে রয়েছে নানা ধরনের মন্তব্য।

গ্যাস লাইনটি যদি অনুমোদনের আগে কিংবা অবৈধ ভাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে তাহলে বাংলাদেশ সরকারের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোরালো দাবী এলাকাবাসীর। সূত্র মতে পাশাপাশি দুইটি সাড়ে ছয় তলা ভবনের মধ্যখানে আনোয়ার হোসেনের ভবনের নিচতলায় প্রচণ্ড গতিতে এবং উচ্চ শব্দে গ্যাস বের হচ্ছিল । তখন বাড়ির কেয়ারটেকার বাড়ির মালিককে ফোন করলে তিনি বলেন, এতো রাতে মিস্ত্রি পাওয়া যাবে না । দেখা যাক কি করা যায়। এতে করে কেয়ারটেকার সহ আশপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং বাখরাবাদ গ্যাস কোম্পানিতে খবর দেয়। সূত্র জানায় যদি অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা ঘটতো তাহলে দুইটি ভবনেই ক্ষতিগ্রস্ত হতো এবং আগুন নিভানোর মত আশেপাশে কোন পানির ব্যবস্থা ছিল না। এই অগ্নিকাণ্ড থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেল এলাকাবাসী। সূত্র আরো জানিয়েছে যেখানে এই অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা ছিল ওই এলাকায় আরো নির্মাণাধীন ভবনে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার জন্য লাইন টানা আছে। ওই লাইনগুলি কেবা কারা এবং কত টাকার বিনিময়ে টেনেছে তাও খতিয়ে দেখা দরকার। উক্ত সংযোগের ব্যাপারে বাখরাবাদ গ্যাস লাকসাম অফিসের ইনচার্জ অতুল নাগ বলেন, ঈদের আগের রাতে গ্যাস লীকেজ হওয়ার খবর শুনে লোকজন পাঠিয়ে রেগুলেটরটি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং কেবা কারা এই সংযোগ দিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাড়ির মালিককে কাগজপত্র নিয়ে আসার জন্য বলা হলেও এখনো কেউ আসেনি । অনুসন্ধান করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।