এক আজব শিক্ষাগুরুর দুর্বোধ্য আচরণের প্রভাব (২য় অংশ) - মোহাম্মদ আইয়ুব
(একটি স্মৃতিচারণমূলক অকৃত্রিম উপাখ্যান)

প্রথম অংশঃ এখানে ক্লিক করুন>>>
২য় অংশঃ
আমার সেই আজব শিক্ষাগুরুর নাম আকতারুল ইসলাম সেলিম।
১৯৯৩ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে স্যারের নিকট নবম শ্রেণির অঙ্কশাস্ত্রের উপর তালিম নেওয়া শুরু করি। স্যার ব্যাচ আকারে পড়াতেন ঠিকই কিন্তু কারো নিকট পয়সাকড়ি চাইতেন না। কেউ কোন দিন মাসের ফিস-টিস দিলে, সেদিন সবাইকে খাওয়াতেন।
কোচিং সেন্টারে কিছু বিস্ময়কর নিয়ম চালু ছিল। যেমন- স্যারের চেয়ারের পাশে স্তুপাকারে কিছু পাথর রাখা। কিছু সংখ্যক ছোট, কিছু সংখ্যক মাঝারি সাইজের। প্রতিটি পাথর সাদা কাগজে মোড়ানো আর কাগজের উপর বড় অক্ষরে ১,২,৩.......১০ পর্যন্ত ক্রমনির্দেশক সংখ্যা লেখা। যে কেউ দেখলেই বুঝবে, অঙ্ক শেখানোর পাঠোপকরণ।
কোচিং সেন্টার থেকে অনুমান পঞ্চাশ গজ দক্ষিণে স্যারর বাড়ি। বাড়ির সাথে লাগোয়া উত্তরে টিনের ছাউনিযুক্ত রান্নাঘর। জমিদারবাড়ির একান্নবর্তী পরিবারের রান্নাঘর। প্রায় সবসময় চুলাই উনুন থাকত।
কোচিং সেন্টারে কোন দিন কোন মেহমান আসলে রান্নাঘরের চালে যত নম্বর যুক্ত পাথর নিক্ষেপ করতেন, ততজন মেহমানের জন্য চা - নাস্তা চলে আসত। ছোট সাইজের পাথর সাধারণ মেহমান এবং মাঝারি সাইজের পাথর গুরুত্বপূর্ণ মেহমান আসার সংকেত বহন করত। যথাসময়ে নাস্তা না পাঠালে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে যেত।
আমি একদিন বললাম, স্যার এইভাবে টিনের চালে পাথর নিক্ষেপ করা অশোভন দেখায়। আমারা এতো গুলি ছাত্র আছি, একজনকে আদেশ দিলেই তো বলে আসতে পারি।
স্যার বললেন- এই কথা আর মুখে আনবে না। আমি সব ফিকির বুঝি। পড়ায় ফাঁকি দেওয়ার ফন্দি। জিয়াকে একবার পাঠিয়েছিলাম খবর দিতে। চা - নাস্তা খেয়ে মেহমান চলে যাওয়ার আরো আধা ঘন্টা পর সে ফিরে এসেছিল। তোমরা কোচিং সেন্টারে পড়ার জন্য আস, চা আনার খবর দিতে নয়।
জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ। মাঘ মাসের কনকনে শীতের সকাল। চারদিক ঘন কুয়াশায় আচ্ছাদিত। কুজঝোটিকা দৃষ্টিসীমাকে বাধাগ্রস্ত করছে। ঝির ঝির করে শৈত্যপ্রবাহ প্রবাহিত হচ্ছে। আর্দ্র বায়ুর সংস্পর্শে নাসারন্ধ্র হতে অনবরত পানি নির্গত হচ্ছে।
পড়তে যাব কি, যাব না, দ্বন্দ্বে আছি। যেতেই হবে। অঙ্ক আমাকে শিখতে হবে। নাকের পানিতে কোচিং সেন্টার প্লাবিত হলেও যাব। সকাল ৭টা ০৫ মিনিটে হাজির হলাম। আমার ব্যাচের পলাশ, কাশেম এবং দুইজন ছাত্রী আর কলেজ ব্যাচের খোরশেদ মাইজ্জা সহ তিন জন এসেছে। স্যার এখনো আসেন নাই। আধা ঘণ্টা হয়ে গেল। আর কারো আসার সম্ভাবনাও নেই।
কলেজ ব্যাচের তিনজন আর আমি স্যারকে ডাকার জন্য বাড়িতে গেলাম। ইতোমধ্যে নানা একবার, নানি একবার স্যারকে জাগাইছেন। নড়েচড়ে আবার ঘুম। এবার নানির বকা শুরু। ছেলে মেয়েরা দূরদূরান্ত থেকে শীতের মধ্যে এসেছে। না পড়ালে তাদের ছুটি দিয়ে দিতি - - ইত্যাদি। কিন্তু স্যারের জাগার কোন লক্ষণ নেই।
এবার নানি আদেশ দিলেন তোমরা তাকে ধরাধরি করে পুকুরে নিয়ে ভিজাও। শাস্ত্রের বিধান, মুরুব্বি মানুষের আদেশ অলঙ্ঘনীয়।
খোরশেদ মাইজ্জার নেতৃত্বে চারজনে সিঙ্গেল খাটের চার খুঁটা ধরে আস্তে আস্তে পুকুরের ঘাটে নিয়ে খাটটি রাখলাম। কিতাবে আছে, গুরু সেবিলে বিদ্যা বাড়ে। আর আমাদের গুরুকে ভিজাইলেই যেন বিদ্যা বাড়ে!
খোরশেদ মাইজ্জা অতিশয় বিনয়ের সাথে বললেন- স্যার ওঠেন। মুরব্বির হুকুম আংশিক তামিল হয়েছে। নইলে বাকিটাও অতিসত্বর তামিল হবে। কম্বলের ভিতর থেকে মুখ বের করে, চোখ খুলে দেখতে পারেন, আপনি এখন পুকুরঘাটে পানির উপরে আছেন। স্যার কি---ই বলে শোয়া থেকে উঠতেই খাটের পায়া একটা নিচের সিঁড়িতে নেমে গেল। খাটটি কাঁত হয়ে গেল। স্যার কম্বলসহ পানিতে। আমরা দৌড়ে কোচিং সেন্টারে চলে এলাম।
ভয়ে ভয়ে হাসতেছি আর অনুতপ্ত হচ্ছি।
বড় ভাই করিম আমাকে ইঙ্গিত করে বললেন- তোমার খুঁটাটি আর দুই ইঞ্চি এদিকে রাখলে এই দুর্ঘটনা হতো না। আমি বললাম- একেতো শীতে দুই হাত সাফ বেছুত্ (অবশ), আন্যদিকে স্যার জেগে উঠার ডরে বুকে ধুক ধুক করছে, এই অবস্থায় ইঞ্চি মেপে খাটের পায়া রাখা কি সম্ভব? আরেকদিন রাখার সময় খেয়াল করে রাখব।
মাইজ্জা বললেন- কী বললে, আরেকদিন রাখবে, আজকে কী লঙ্কাকাণ্ড ঘটায় দেখ।
খানিকক্ষণ পর স্যার শীতে কাঁপতে কাঁপতে এসে বললেন - তোদের কাজটি হইছে। মা নাহয় বলেছে। এমন হতারা কাজ (জঘন্য কাজ) কি কেউ করে? যাক, বই খোল।
পরেরদিন নানিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কিছু বলছিলেন কি না।
- গা মুছতে মুছতে বলছিল-" কী শয়তান পুলা-পাইন দেখ তো"। তোমার নানা বলছিল, ঠিক কাজ হয়েছে। যেমন গুরুর তেমন শিষ্য। আমি বললাম- আমি ভিজাতে বলছি। তারা সেই সকালে এসে শীতের মধ্যে আর কতক্ষণ বসে থাকবে।
এক মাস অতিবাহিত হলো। আমি নিজে নিজে পঠিত অধ্যায়ের অঙ্ক করার চেষ্টা করলাম। কিন্তু না অর্ধেকে গিয়ে আটকে যায়। বানর যেমন দ্বিতীয় মিনিটে এক মিটার পিছে নামে। খুব ইয়াদ করে দেখি, হয় না। আমি ছাড়া সবাই স্যারের নিয়ম সহজেই রপ্ত করতে সক্ষম হচ্ছে।
দুই মাস পার হলো আমি আমার মধ্যে কোন অগ্রগতি দেখছি না।
একদিন সকালে পড়তে গিয়ে দেখি আমি ছাড়া আমার ব্যাচের কোন ছাত্র আসে নাই। কেবল চার জন ছাত্রী এসেছে। সেদিন পরীক্ষা নেওয়ার কথা। আমার জানা ছিল না।
ঘোষণা ছিল ৬০% মার্ক পেতে হবে। ৬০ থেকে যে যত নম্বর কম পাবে, তাকে ৬ নম্বর বেত দিয়ে তত বারি হজম করতে হবে। এই জন্যই হয়ত কাশেম, পলাশ, জিয়া, কামাল, বশর কেউ আসে নাই। আমি জানলে পরেরদিনও আসতাম না।
পরীক্ষার পর দেখা গেল চার জন মেয়ে প্রত্যেকে ৬০% এর বেশি নম্বর পেল। কিন্তু আমার বদনসিব। একটি অঙ্কও হয় নাই। পুরাে ৬০ বারি হজম করতে হবে।
স্যার বেতটি নিয়ে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করলেন। মারলেন না। তবে যে কয়টি কথা বললেন, তা শুনে মনে হলো শরীরের সব মাংস খসে পড়ছে।
তোমাকে মেয়েদের গু খাওয়াতে হবে। সাথে সাথে একজন মেয়ে ফিক করে হেসে ওঠল।
আমি লজ্জায় ক্ষোভে নিচের দিকে তাকিয়ে রইলাম।
স্যার আবার বললেন - মেয়েটি হাসছে কেন আমি বুঝছি। সে হাসছে, তাদের প্রকৃতির হাজত হলেই তো ঐ জিনিস পাবো। আবার হাসি।
স্যার এবার বললেন, বুঝছি প্রকৃতির হাজত হলে পানি খরচ কোত্থেকে করবে, এইতো? ব্যবস্থা আছে। আমার মায়ের মান্ধাতা আমলের কাঁসা আর পিতলের তৈরি সোনালি রঙের একটি ঘটি ( জলপাত্র) আছে। অতি যত্নে মাচায় তোলে রাখা। এক ঘটি দিয়ে চার জন পানি খরচ করতে পারে।
বাকসংযমের অভ্যাস আমার ধাতে নাই। কিন্তু আজকে আমার মুখ থেকে রা বেরোচ্ছে না। নেত্রপল্লব কাঁপছে। নাসিকা রন্ধ্র দিয়ে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিবর্তে ক্রমবর্ধমান ক্রোধানল নির্গত হচ্ছে। অশ্রুরুদ্ধ কণ্ঠে বললাম- স্যার, এজাজত দিলে আমি গমন করব।
স্যার নিশ্চয় বুঝছেন, অনুমতি নাদিলেও আমি চলে যাব। তাই বললেন, আজকের মতো সবার ছুটি।
আমি কোচিং সেন্টারকে সাত সালাম দিয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম, এই হোমো সেপিয়েন্স প্রজাতির প্রাণী, আজব শিক্ষকের সামনে কিয়ামতের আগপর্যন্ত পড়বো না।
এক সপ্তাহ যাবত কষ্টদায়ক মর্মপীড়ায় ভোগলেও নৈরাশ্যবাদ (Pessimism) আমার মনকে অণু পরিমাণ স্পর্শ করতে পারেনি।
মনোবল বৃদ্ধি করে দুই মাস যা পড়েছি, তা ঘরে বসে একাগ্রচিত্তে পুনঃপুন অনুশীলন করতে লাগলাম। কখনো কোনটি বুঝতে অসুবিধা হলে সরাসরি সমীর স্যারের কাছে গিয়ে বুঝে নিছি। সমীর স্যার হচ্ছেন, উখিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক(বিএসসি)। পুরো নাম সমীর কুমার চক্রবর্তী। বর্তমানে পরলোকপ্রাপ্তি। মহান সৃষ্টিকর্তা স্যারকে স্বর্গবাসী করুক।
এইভাবে চেষ্টার মাসান্তে মনের মধ্যে একপ্রকার প্রফুল্লিত ভাব, বিকশিত হওয়ার সুবাতাস, অনুভব করলাম। এখন আর আগের মতো ভুল হয় না। অর্ধেকে আটকে যায় না। এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সমীর স্যারের নিকট পড়তে শুরু করলাম এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রথম সাময়িক পরীক্ষার সিলেবাস রপ্ত করলাম।
এরিমধ্যে একবিকেলে সেলিম স্যার আমার বাড়িতে এসে হাজির। আমি ঘরে ছিলাম না। মাঠে ফুটবল খেলছিলাম। আমি পড়তে যায় না কেন মাকে জিজ্ঞেস করেন।
মা উত্তরে বলেছিলেন, সে তোমার কাছে পড়তে যাওয়া, আবার যাওয়া বন্ধ করা, কোনটিইতো জানি না। পরদিন থেকে পড়তে যাওয়ার কথা বলে সাদাপাতা দিয়ে একখিলি পান খেয়ে চলে যান। রাতে মা'র নিকট শুনে ভাবলাম, দুই মাস পড়লাম। একটা টাকাও দিলাম না। কতবার তাঁর পান চুরি করে খেয়েছি। পানিতে ভিজাইছি, বুঝলেও কিছু বলেননি। এখন বাড়িতে এসে খোঁজ নিচ্ছেন। তিনি কি মানুষ, না ফেরেস্তা!
পলাশ একদিন পড়ার সময় আমি স্যারের নিকট পড়তে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টি তোলেছিল। স্যার সাথে সাথে নাকি জবাব দিয়েছিলেন - জানি।
পলাশ- কেমনে জানেন?
একজন ছাত্রী বলল- সেদিন তাকে এতো কড়া - কড়া কথা বলা ঠিক হয়নি।
সেলিম স্যার- তোমরা তাকে কতটুকু চেন? আমার ঘাড়ে রগ একটা বাঁকা, তার পুরো ঘাড়টাই ত্যাড়া।
আমি যে শয়তানি করি, তা দেখে ইবলিশ শয়তান ফিক্কির-ফিক্কির (মুচকি-মুচকি) হাসে। কারণ আমার এগুলি শয়তানির শও হয় না। সে যে শয়তানি করে, তা দেখে আজাজিল ফেরেস্তা গুজুরি গুজুরি কাঁদে (গুজুরি- উচ্চস্বরে), আর আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে বলে-" ইয়া মাবুদ তুমি এই নাবালক ছেলে একটাকে দিয়ে কেন আমাকে বেইজ্জতি করছ"।
আমি নবম শ্রেণির প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় অঙ্কসহ সব বিষয়ে সত্তরোর্ধ্ব মার্ক পাই। দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় আরও কিছুটা অগ্রগতি হয়। যেটি ছিল আমার জন্য বিরল। বার্ষিক পরীক্ষায়ও গণিতসহ সব বিষয়ে সত্তরোর্ধ্ব মার্ক পেয়ে শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে কম্বাইন্ড রেজাল্টে তৃতীয় স্থান লাভ করি।
একজন ক্লাস টিচার ক্লাসের সকল ছাত্রছাত্রীর বিষয়ে সম্মুখ ধারণা রাখেন। যেটি জাহেদ স্যার বলেছিলেন, অঙ্কে ভালো করলে ৩ এর মধ্যে থাকতে পারব। বছরান্তে সেটিই হয়েছে। জাহেদ স্যারের প্রতি আমার অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা।
১৯৯৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ১৮৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে আমার সেই ভীতিকর গণিত বিষয়ে আমিসহ তিন জনে লেটার মার্ক পেয়েছিলাম।
এসএসসি'র রেজাল্টের পর এক কেজি মিষ্টি নিয়ে সেলিম স্যারকে সালাম করতে যাই। চরণধূলি নিয়ে বললাম, স্যার আমি অঙ্কে লেটার মার্ক পয়েছি। নিশ্চয় এখন আপনার সেই মেয়েদের - -- খেতে হবে না। স্যার আমাকে বুকে টেনে নিয়ে বললেন, আরে বেকুব তুরে সেদিন গোস্সা তোলে না দিলে, তুই নিশ্চিত গণিতে ফেল করতি। আমি সব সময় তোর খবর রেখেছি। ১ম ও ২য় সামিয়ক পরীক্ষায় কত পাইছিস, বার্ষিক পরীক্ষায় কত নম্বরে পাস করছিস, সব খবর রাখছি।
স্যারের কথা শুনে আমার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত রাগ নিমিষেই প্রশমিত হয়ে গেল, শ্রদ্ধা শতগুণ বেড়ে ভক্তি - আপ্লুত হলাম।
সত্যিই আমার এই আজব শিক্ষাগুরুর দূর্বোধ্য আচরণের প্রভাবে, আমি অঙ্কশাস্ত্রে পাণ্ডিত্য অর্জন করতে না পারলেও সাধনায় যে সিদ্ধিলাভ করেছি, তা দিয়ে অসংখ্য ছাত্রছাত্রীকে পড়িয়েছি এবং ছাত্রজীবনেই স্বাবলম্বিতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। আমার আজব শিক্ষাগুরুর দীর্ঘায়ু কামনা করি। স্যারের শিক্ষানুরাগী পিতা-মাতা ও বড় ভাই শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মরহুম মাস্টার আর এম সাইফুল ইসলামের মাগফিরাত কামনা করি।
লেখক-
মোহাম্মদ আইয়ুব
পুলিশ পরিদর্শক,
সদর দক্ষিণ সার্কেল অফিস, কুমিল্লা।
তারিখ- ১৩/০৫/২০২৩ ইং
